বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবে এবং আগাম সুরক্ষার স্বার্থে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ওয়েবসাইট। তবে ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনলাইন সংযোগ ও সার্বিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তার একটি বড় ধরনের ঝুঁকি ও সতর্কতা জারির পর ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং ওয়েব অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রযুক্তি দল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সিস্টেম ও ডাটা সংযোগ স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিভাগ সার্বক্ষণিক বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে সুরক্ষা যাচাই সম্পন্ন করে ওয়েবসাইটটি কখন নাগাদ পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত চেষ্টা করেও বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। ব্যবহারকারীরা সাধারণ ব্রাউজার দিয়ে প্রবেশ করতে গেলে স্ক্রিনে কেবল একটি ‘রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত’ (Maintenance) বার্তা দেখতে পাচ্ছেন।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ওপেন-সোর্স প্রোগ্রামিং ভাষা ‘পিএইচপি’তে (PHP) সম্প্রতি একটি গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়। সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যালিফ’ ও ‘উইজ’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথম এই ত্রুটিটি সামনে আনে। উদ্ভূত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারও জাতীয় পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তা দুর্বলতার সতর্কতা জারি করেছিল।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক অতীতেও বড় ধরনের সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছিল। ২০১৬ সালে হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে নেয়, যা বৈশ্বিক ব্যাংকিং ইতিহাসে অন্যতম বড় সাইবার ডাকাতি হিসেবে পরিচিত।